যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসার খরচ কত? ফি থেকে ব্যাংক ব্যালেন্স — পুরো হিসাব
SEVIS ফি, ভিসা আবেদন ফি, IELTS/TOEFL, কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক — যুক্তরাষ্ট্রের F-1 স্টুডেন্ট ভিসা পেতে মোট কত টাকা লাগে এবং ব্যাংকে কত দেখাতে হয়, টাকার অঙ্কে পূর্ণ হিসাব।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ভিসা-প্রক্রিয়ার সরাসরি খরচ মূলত দুটি — SEVIS I-901 ফি ৩৫০ ডলার আর ভিসা আবেদন (MRV) ফি ১৮৫ ডলার, মোট ৫৩৫ ডলার (প্রায় ৬৫–৭০ হাজার টাকা, ডলারের দরভেদে)। সঙ্গে IELTS/TOEFL, কাগজপত্র ও যাতায়াত ধরলে ভিসা পর্যন্ত মোট খরচ সাধারণত ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। এর বাইরে ব্যাংকে দেখাতে হয় I-20-তে লেখা প্রথম বছরের খরচের সমপরিমাণ অর্থ — সেটি খরচ নয়, প্রমাণ।
খরচ তিন ভাগে ভাবুন
গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল — তাই আলাদা করে নিন:
- ভিসা-ফি — সরকারকে দেওয়া অফেরতযোগ্য ফি (SEVIS + MRV)
- আনুষঙ্গিক খরচ — পরীক্ষা, কাগজ, কুরিয়ার, যাতায়াত
- আর্থিক প্রমাণ — ব্যাংকে যা দেখাতে হয়; এটা খরচ নয়, আপনার টাকাই
১. সরকারি ফি (অফেরতযোগ্য)
| ফি | কাকে, কখন | পরিমাণ |
|---|---|---|
| SEVIS I-901 | fmjfee.com — I-20 পাওয়ার পর | ৩৫০ ডলার |
| ভিসা আবেদন (MRV) | অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় | ১৮৫ ডলার |
| মোট | ৫৩৫ ডলার |
২. আনুষঙ্গিক খরচ (আনুমানিক)
| খাত | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| IELTS/TOEFL পরীক্ষা | ২০–২৮ হাজার টাকা |
| GRE/SAT (লাগলে) | ২৫–৩০ হাজার টাকা |
| সনদ তোলা, ট্রান্সক্রিপ্ট, নোটারি | ৩–১০ হাজার টাকা |
| ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট | ৫০০–২,০০০ টাকা |
| স্কোর পাঠানো, আবেদন ফি (বিশ্ববিদ্যালয়প্রতি ৫০–১০০ ডলার) | বিশ্ববিদ্যালয়-সংখ্যাভেদে |
| ঢাকায় যাতায়াত-থাকা (ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের) | নিজ হিসাবে |
পাসপোর্ট এখনো না থাকলে সেটিও করিয়ে নিন আগেভাগে — নিয়ম ও ফি দেখুন ই-পাসপোর্ট গাইডে।
৩. ব্যাংকে কত দেখাতে হয়?
মানদণ্ড একটাই: আপনার I-20 ফরমের "Estimated Average Costs" ঘরে লেখা প্রথম বছরের মোট খরচ। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এটি বছরে ২৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে — টিউশন ও শহরের জীবনযাত্রার খরচ অনুযায়ী।
দেখানোর গ্রহণযোগ্য উপায়:
- নিজের/স্পনসরের সেভিংস অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট (তাৎক্ষণিক উত্তোলনযোগ্য)
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
- স্কলারশিপ/অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ লেটার — যা I-20-তেও উল্লেখ থাকে
- স্পনসরের আয়ের ধারাবাহিক প্রমাণ (ট্যাক্স রিটার্ন, বেতন সনদ, ব্যবসার কাগজ)
টাকা বাঁচানোর বৈধ উপায়
- ফান্ডিংসহ ভর্তির চেষ্টা করুন — মাস্টার্স/পিএইচডিতে টিএ-আরএ-স্কলারশিপ পেলে খরচের চিত্রই বদলে যায়
- আবেদন ফি মওকুফ (fee waiver) চেয়ে ইমেইল করুন — বহু বিশ্ববিদ্যালয় দেয়
- ডলারের দর ভালো থাকতে ফি-গুলো আগে দিয়ে রাখুন
- এজেন্ট বাদ দিন — পুরো প্রক্রিয়া নিজে করলে এজেন্ট-ফির লাখ টাকা পুরোটাই বাঁচে; ধাপগুলো দেখুন সম্পূর্ণ F-1 গাইডে
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ভিসা রিফিউজ হলে কি ফি ফেরত পাওয়া যায়?
না। SEVIS ফি ও ভিসা আবেদন (MRV) ফি — দুটোই অফেরতযোগ্য, ভিসা হোক বা না হোক। আবার আবেদন করলে MRV ফি নতুন করে দিতে হয়; SEVIS ফি সাধারণত একই I-20-এর জন্য আবার লাগে না।
ব্যাংকে ঠিক কত টাকা দেখাতে হয়?
কোনো নির্ধারিত সরকারি অঙ্ক নেই — মানদণ্ড হলো আপনার I-20 ফরমে লেখা প্রথম বছরের মোট খরচ (টিউশন + থাকা-খাওয়া)। অন্তত সেই পরিমাণ তাৎক্ষণিক-উত্তোলনযোগ্য অর্থ এবং পরের বছরগুলোর খরচের বিশ্বাসযোগ্য উৎস দেখানোই নিরাপদ পন্থা।
টাকা কি অনেক দিন ব্যাংকে রাখতে হয়?
নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম সময় আইনে নেই, তবে ইন্টারভিউয়ের ঠিক আগে হঠাৎ বড় অঙ্ক জমা পড়লে অফিসার উৎস জানতে চাইতে পারেন। টাকার বৈধ উৎস (জমি বিক্রি, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো, ব্যবসার আয়) ব্যাখ্যা ও প্রমাণ করতে পারলে সমস্যা নেই।
স্কলারশিপ থাকলে কি ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগবে না?
স্কলারশিপ যত টাকার, তত টাকা কম দেখালেই চলে। ফুল ফান্ডিং (টিউশন + স্টাইপেন্ড) থাকলে কার্যত বড় ব্যাংক ব্যালেন্স লাগে না — I-20-তেই ফান্ডিং উল্লেখ থাকবে। আংশিক স্কলারশিপ হলে বাকি অংশের ব্যক্তিগত প্রমাণ লাগবে।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা (F-1): আবেদনের সম্পূর্ণ গাইড বাংলাদেশিদের জন্য
I-20 পাওয়া থেকে SEVIS ফি, DS-160 ফরম, ইন্টারভিউ ও ভিসা হাতে পাওয়া পর্যন্ত — যুক্তরাষ্ট্রের F-1 স্টুডেন্ট ভিসার প্রতিটি ধাপের সহজ বাংলা গাইড।
F-1 ভিসা ইন্টারভিউ: কী প্রশ্ন করে, কীভাবে উত্তর দেবেন
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে F-1 স্টুডেন্ট ভিসা ইন্টারভিউতে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন, উত্তরের কৌশল, কী নেবেন আর কোন ভুলে ভিসা রিফিউজ হয় — পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গাইড।
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সহজ ব্যাখ্যা।
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা (Subclass 500): CoE, GS ও আর্থিক প্রমাণসহ পূর্ণ গাইড
অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৫০০ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন — CoE, Genuine Student (GS) রিকোয়ারমেন্ট, আর্থিক সামর্থ্য, OSHC স্বাস্থ্যবিমা ও ImmiAccount-এ আবেদনের প্রতিটি ধাপ সহজ বাংলায়।
কানাডার স্টাডি পারমিট: LOA, PAL ও আর্থিক প্রমাণসহ আবেদনের সম্পূর্ণ নিয়ম
কানাডায় পড়তে স্টাডি পারমিটের আবেদন কীভাবে করবেন — DLI থেকে ভর্তি, প্রভিন্সিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার (PAL), আর্থিক প্রমাণ, বায়োমেট্রিক ও প্রসেসিং সময়ের পূর্ণ গাইড।
যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা: CAS থেকে ভিসা হাতে পাওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ গাইড
যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য CAS, ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ম, IHS ফি, IELTS UKVI ও অনলাইন আবেদনের প্রতিটি ধাপ — বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ বাংলায়।