কানাডার স্টাডি পারমিট: LOA, PAL ও আর্থিক প্রমাণসহ আবেদনের সম্পূর্ণ নিয়ম
কানাডায় পড়তে স্টাডি পারমিটের আবেদন কীভাবে করবেন — DLI থেকে ভর্তি, প্রভিন্সিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার (PAL), আর্থিক প্রমাণ, বায়োমেট্রিক ও প্রসেসিং সময়ের পূর্ণ গাইড।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: কানাডায় পড়তে লাগে স্টাডি পারমিট। ধাপ: DLI-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির চিঠি (LOA) নিন → প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে PAL (প্রাদেশিক প্রত্যয়ন) নিশ্চিত করুন → টিউশনের প্রথম বছর + জীবনযাত্রার খরচের আর্থিক প্রমাণ গুছিয়ে IRCC-তে অনলাইন আবেদন করুন → ঢাকার VFS-এ বায়োমেট্রিক দিন। পারমিট অনুমোদনের সঙ্গে প্রবেশ-ভিসা (TRV) একসঙ্গেই আসে।
স্টাডি পারমিট কী?
৬ মাসের বেশি যেকোনো কোর্সে কানাডায় পড়তে হলে স্টাডি পারমিট বাধ্যতামূলক। আবেদন যায় IRCC (Immigration, Refugees and Citizenship Canada)-র কাছে, পুরোটাই অনলাইনে। মনে রাখুন: ভর্তি শুধু DLI (Designated Learning Institution)-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে হলে তবেই পারমিট মিলবে — ভর্তির আগে সরকারি DLI তালিকায় প্রতিষ্ঠানের নাম মিলিয়ে নিন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
- DLI থেকে Letter of Acceptance (LOA) পেয়েছেন
- প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে PAL/TAL পেয়েছেন (মাস্টার্স-পিএইচডিসহ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় আছে)
- প্রথম বছরের টিউশন + জীবনযাত্রার খরচ + যাতায়াতের আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারবেন
- পড়াশোনার উদ্দেশ্য ও শেষে ফেরার পরিকল্পনা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন — অনেকে এজন্য আবেদনের সঙ্গে Statement of Purpose/Study Plan দেন
কী কী কাগজপত্র লাগবে?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বৈধ পাসপোর্ট
- DLI-র Letter of Acceptance (LOA)
- Provincial Attestation Letter — PAL (প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে দেবে)
- আর্থিক প্রমাণ: GIC + প্রথম বছরের টিউশন পরিশোধের রসিদ (সবচেয়ে জোরালো সমন্বয়) বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট/শিক্ষা ঋণ/স্কলারশিপ
- শিক্ষাগত সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- IELTS/TOEFL স্কোর (প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী)
- Study Plan / SOP — কেন কানাডা, কেন এই কোর্স, শেষে কী করবেন
- মেডিকেল পরীক্ষা (IRCC-অনুমোদিত প্যানেল চিকিৎসকের কাছে — নির্দেশ পেলে বা আগাম)
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (চাওয়া হলে)
আবেদনের ধাপগুলো
DLI-তে ভর্তি হয়ে LOA ও PAL নিন
ভর্তি নিশ্চিত করে LOA নিন; অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথম সেমিস্টার/বছরের টিউশন আগাম নেয় — এই রসিদ পরে আর্থিক প্রমাণেও কাজে লাগে। এরপর প্রতিষ্ঠানই প্রাদেশিক কোটা থেকে আপনার PAL ইস্যু করাবে।
আর্থিক প্রমাণ গুছিয়ে ফেলুন
সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ছক: প্রথম বছরের টিউশন পরিশোধ + কানাডার ব্যাংকে জীবনযাত্রার খরচের GIC। জীবনযাত্রার খরচের নির্ধারিত অঙ্ক IRCC প্রতি বছর হালনাগাদ করে (বর্তমানে এক ব্যক্তির জন্য বছরে ২০ হাজার কানাডীয় ডলারের ওপরে) — আবেদনের আগে চলতি অঙ্ক IRCC-র পাতায় দেখে নিন।
IRCC অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইন আবেদন করুন
IRCC-র সিকিউর অ্যাকাউন্টে ফরম পূরণ করে সব ডকুমেন্ট আপলোড করুন এবং স্টাডি পারমিট ফি ও বায়োমেট্রিক ফি কার্ডে দিন। SOP আপলোডের সুযোগ থাকলে অবশ্যই দিন — রিফিউজালের বড় অংশ আসে 'উদ্দেশ্য অস্পষ্ট' যুক্তিতে।
বায়োমেট্রিক দিন
আবেদনের পর Biometric Instruction Letter (BIL) পাবেন — সেটি নিয়ে ঢাকার VFS Global কেন্দ্রে ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিন (৩০ দিনের মধ্যে)।
মেডিকেল ও অতিরিক্ত কাগজের নির্দেশ মানুন
IRCC চাইলে প্যানেল চিকিৎসকের মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা বাড়তি কাগজ চাইবে — নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিন, নইলে আবেদন বাতিল হয়।
অনুমোদনের চিঠি নিয়ে যাত্রা করুন
অনুমোদন হলে পাবেন Port of Entry (POE) Letter of Introduction ও পাসপোর্টে TRV। মূল স্টাডি পারমিটটি ইস্যু হয় কানাডার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর — POE চিঠি ও LOA হাতের কাছে রাখুন।
খরচ ও সময়
| খাত | পরিমাণ/ধরন |
|---|---|
| স্টাডি পারমিট ফি | ১৫০ কানাডীয় ডলার |
| বায়োমেট্রিক ফি | ৮৫ কানাডীয় ডলার |
| GIC (ফেরতযোগ্য — আপনার নিজেরই টাকা) | জীবনযাত্রার নির্ধারিত বার্ষিক অঙ্ক |
| মেডিকেল, IELTS, কাগজপত্র | নিজ হিসাবে |
প্রসেসিং সময় দেশ ও মৌসুমভেদে অনেক ওঠানামা করে — কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। IRCC-র সাইটে বাংলাদেশ থেকে করা আবেদনের চলতি গড় সময় দেখা যায়; সেমিস্টার শুরুর অন্তত ৪–৬ মাস আগে আবেদন করা নিরাপদ।
রিফিউজাল এড়াতে
- উদ্দেশ্য স্পষ্ট করুন — নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে মানানসই কোর্স বাছুন; ব্যাচেলরের পর অপ্রাসঙ্গিক ডিপ্লোমায় ভর্তি রিফিউজালের ক্লাসিক কারণ
- টাকার উৎস ব্যাখ্যাযোগ্য রাখুন — হঠাৎ জমা পড়া বড় অঙ্ক প্রশ্ন তোলে
- এজেন্টের বানানো SOP নয় — জেনেরিক ভাষা অফিসাররা চেনেন
- অন্য দেশের তুলনা দেখতে পড়ুন যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার গাইড
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
স্টাডি পারমিট আর ভিসা কি একই জিনিস?
না। স্টাডি পারমিট হলো কানাডায় পড়ার অনুমতিপত্র, আর দেশে ঢোকার জন্য লাগে ভিজিটর ভিসা (TRV)। সুখবর হলো — স্টাডি পারমিট অনুমোদন হলে TRV সাধারণত একসঙ্গেই ইস্যু হয়ে যায়, আলাদা আবেদন লাগে না।
PAL কী এবং কে দেয়?
PAL (Provincial Attestation Letter) হলো প্রদেশের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র — ২০২৪ সাল থেকে অধিকাংশ স্টাডি পারমিট আবেদনে বাধ্যতামূলক। আপনি নিজে এটি চাইতে পারবেন না; ভর্তি হওয়ার পর আপনার কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রাদেশিক কোটা থেকে PAL সংগ্রহ করে দেয়। মাস্টার্স-পিএইচডিসহ কিছু ক্যাটাগরিতে ছাড় আছে — প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
SDS (Student Direct Stream) কি এখনো চালু আছে?
না। দ্রুত প্রসেসিংয়ের SDS পদ্ধতি ২০২৪ সালের নভেম্বরে বন্ধ হয়ে গেছে — এখন সবাইকে সাধারণ (regular) স্ট্রিমে আবেদন করতে হয়। পুরনো ব্লগ/এজেন্টের SDS-ভিত্তিক পরামর্শ অনুসরণ করবেন না।
GIC কি এখনো লাগে?
GIC (Guaranteed Investment Certificate) এখন বাধ্যতামূলক নয়, তবে কানাডার ব্যাংকে প্রায় এক বছরের জীবনযাত্রার খরচ GIC হিসেবে রাখা এখনো আর্থিক সামর্থ্যের সবচেয়ে জোরালো ও বহুল-স্বীকৃত প্রমাণ — অধিকাংশ সফল আবেদনকারী এটিই ব্যবহার করেন।
পড়ার পাশাপাশি কাজ করা যাবে?
শর্ত পূরণ হলে ক্যাম্পাসের বাইরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজের অনুমতি আছে (নিয়মিত সেমিস্টার চলাকালে); নির্ধারিত ছুটিতে ফুলটাইম। আপনার পারমিটের শর্তে কাজের কথা লেখা আছে কি না দেখে নিন।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা (F-1): আবেদনের সম্পূর্ণ গাইড বাংলাদেশিদের জন্য
I-20 পাওয়া থেকে SEVIS ফি, DS-160 ফরম, ইন্টারভিউ ও ভিসা হাতে পাওয়া পর্যন্ত — যুক্তরাষ্ট্রের F-1 স্টুডেন্ট ভিসার প্রতিটি ধাপের সহজ বাংলা গাইড।
যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা: CAS থেকে ভিসা হাতে পাওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ গাইড
যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য CAS, ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ম, IHS ফি, IELTS UKVI ও অনলাইন আবেদনের প্রতিটি ধাপ — বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ বাংলায়।
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা (Subclass 500): CoE, GS ও আর্থিক প্রমাণসহ পূর্ণ গাইড
অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৫০০ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন — CoE, Genuine Student (GS) রিকোয়ারমেন্ট, আর্থিক সামর্থ্য, OSHC স্বাস্থ্যবিমা ও ImmiAccount-এ আবেদনের প্রতিটি ধাপ সহজ বাংলায়।
F-1 ভিসা ইন্টারভিউ: কী প্রশ্ন করে, কীভাবে উত্তর দেবেন
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে F-1 স্টুডেন্ট ভিসা ইন্টারভিউতে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন, উত্তরের কৌশল, কী নেবেন আর কোন ভুলে ভিসা রিফিউজ হয় — পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গাইড।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসার খরচ কত? ফি থেকে ব্যাংক ব্যালেন্স — পুরো হিসাব
SEVIS ফি, ভিসা আবেদন ফি, IELTS/TOEFL, কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক — যুক্তরাষ্ট্রের F-1 স্টুডেন্ট ভিসা পেতে মোট কত টাকা লাগে এবং ব্যাংকে কত দেখাতে হয়, টাকার অঙ্কে পূর্ণ হিসাব।