পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন: কী হয়, কত দিন লাগে, টাকা লাগে কি?
পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনে কী যাচাই হয়, বাড়িতে কে আসে, কত দিন লাগে, টাকা চাইলে কী করবেন এবং ভেরিফিকেশন নেগেটিভ হলে করণীয় — সব প্রশ্নের উত্তর।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর আপনার আবেদন যায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (SB) — একজন কর্মকর্তা ফোন করে বা বাড়িতে এসে যাচাই করেন আপনি সত্যিই ওই ঠিকানার বাসিন্দা কি না, তথ্য সঠিক কি না এবং ফৌজদারি মামলা আছে কি না। কোনো টাকা লাগে না, সাধারণত ৩–১০ দিনে শেষ হয়। এনআইডি-ঠিকানা সঠিক থাকলে ভয়ের কিছুই নেই।
কী যাচাই করা হয়?
- আবেদনে দেওয়া ঠিকানায় আপনি বাস করেন কি না
- নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ — জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মসনদের সঙ্গে মিল
- আপনার নামে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা আছে কি না
- নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর কিছু আছে কি না
প্রতিবেদন ইতিবাচক হলে আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে এগোয় — অগ্রগতি দেখুন স্ট্যাটাস চেক করার নিয়মে।
ভেরিফিকেশনের দিন যা প্রস্তুত রাখবেন
হাতের কাছে রাখুন
- জাতীয় পরিচয়পত্র (মূল + ফটোকপি)
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (শিশু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে)
- আবেদনের প্রিন্ট/ডেলিভারি স্লিপের কপি
- ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল, বাড়িভাড়ার চুক্তি বা হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ
- শিক্ষা/পেশার কাগজ (চাওয়া হলে)
প্রক্রিয়াটা যেভাবে চলে
আবেদন এসবিতে যায়
বায়োমেট্রিকের পর আবেদনটি ইলেকট্রনিকভাবে আপনার ঠিকানার এখতিয়ারভুক্ত এসবি ইউনিটে পৌঁছায়। স্ট্যাটাসে তখন দেখায় "Pending Police Verification"।
কর্মকর্তা যোগাযোগ করেন
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধারণত ফোনে সময় ঠিক করে বাড়িতে আসেন — কোথাও কোথাও থানায় কাগজ নিয়ে দেখা করতে বলা হয়। কাগজগুলো দেখান, প্রশ্নের সোজা উত্তর দিন; প্রতিবেশীর সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে।
প্রতিবেদন জমা হয়
কর্মকর্তা ইতিবাচক/নেতিবাচক প্রতিবেদন অনলাইনে জমা দেন। ইতিবাচক হলে আবেদন সামনে এগোয়; সাধারণত পুরো ধাপ ৩–১০ দিনে শেষ হয়, দুই ঠিকানার ক্ষেত্রে বেশি লাগতে পারে।
টাকা চাইলে কী করবেন?
নেগেটিভ রিপোর্ট এলে?
প্রথমে কারণ জানুন — সাধারণত তিনটি: ঠিকানায় পাওয়া যায়নি, তথ্যে গরমিল, বা মামলা। এরপর:
- ঠিকানা-জনিত হলে: প্রকৃত ঠিকানার প্রমাণসহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে লিখিত আবেদন করুন — পুনঃভেরিফিকেশনের সুযোগ আছে।
- তথ্যের গরমিল হলে: আগে তথ্য সংশোধন করুন, তারপর আবেদন।
- মামলা-জনিত হলে: মামলার হালনাগাদ অবস্থার কাগজসহ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
দ্রুত পার হওয়ার ৪ কৌশল
- আবেদনে সেই ঠিকানাই দিন যেখানে সত্যি থাকেন — "গ্রামের ঠিকানা ভালো দেখায়" ভেবে ভুয়া ঠিকানা দেওয়াই দেরির মূল কারণ
- ফোন নম্বর সচল রাখুন — কর্মকর্তার প্রথম যোগাযোগ ফোনেই
- কাগজপত্র এক ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন — এক দিনেই ভেরিফিকেশন শেষ
- স্ট্যাটাস এক সপ্তাহের বেশি স্থির থাকলে নিজে এসবি অফিসে খোঁজ নিন
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
পুলিশ ভেরিফিকেশনে কি টাকা দিতে হয়?
না — পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে; এর খরচ পাসপোর্ট ফির মধ্যেই ধরা আছে। কেউ 'খরচাপাতি' চাইলে সেটি ঘুষ — না দেওয়াই আইনসম্মত অবস্থান, প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা দুদকের হটলাইনে (১০৬) অভিযোগ করা যায়।
ভেরিফিকেশনের সময় বাড়িতে না থাকলে কী হবে?
কর্মকর্তা সাধারণত আগে ফোন করেন — আবেদনপত্রে দেওয়া নম্বরটি সচল রাখুন। একেবারে যোগাযোগ না হলে প্রতিবেদন আটকে থাকে বা প্রতিবেশীর ভাষ্যে চলে; ফোন পেলে সময় মিলিয়ে নিন, সশরীরে থাকা সবসময়ই ভালো।
মামলা থাকলে কি পাসপোর্ট হবে না?
বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা থাকলে ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে তা উঠে আসে এবং পাসপোর্ট আটকে যেতে পারে — চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় অধিদপ্তর। মামলা নিষ্পত্তির কাগজ বা আদালতের অনুমতি থাকলে তা জমা দিন; প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে কি দুবার ভেরিফিকেশন হয়?
হতে পারে — দুই ঠিকানাতেই আলাদা ভেরিফিকেশনের নিয়ম রয়েছে, ফলে সময়ও বেশি লাগে। যে ঠিকানায় সত্যিই থাকেন সেটিই বর্তমান ঠিকানা হিসেবে দিন; ভুয়া ঠিকানা দিলে নেগেটিভ রিপোর্টের ঝুঁকি।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সহজ ব্যাখ্যা।
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম — আবেদন এখন কোন ধাপে?
ই-পাসপোর্ট আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে দেখার নিয়ম — Application ID/OID দিয়ে চেক, প্রতিটি স্ট্যাটাসের মানে কী এবং কোন ধাপে আটকে থাকলে কী করবেন।
পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে? বয়স ও পেশাভেদে পূর্ণ তালিকা
প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু, সরকারি চাকরিজীবী, বিবাহিত — কার ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্টের জন্য কোন কোন কাগজ লাগে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সাধারণ ভুলগুলোর সমাধান।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন? জিডি থেকে নতুন পাসপোর্ট পর্যন্ত
পাসপোর্ট হারালে বা চুরি হলে প্রথম কাজ থানায় জিডি — এরপর জিডির কপিসহ রি-ইস্যুর আবেদন। দেশে ও বিদেশে হারানো পাসপোর্টের পূর্ণ করণীয়, খরচ ও সতর্কতা।
পাসপোর্ট সংশোধনের নিয়ম — নাম, জন্মতারিখ বা তথ্য ভুল হলে যা করবেন
পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা অন্য তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের ধাপ — আগে এনআইডি ঠিক করা কেন জরুরি, কী কাগজ লাগে ও কোথায় আবেদন করবেন।
পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে? ই-পাসপোর্ট ফির সম্পূর্ণ তালিকা
৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ ও ১০ বছর মেয়াদ, রেগুলার-এক্সপ্রেস-সুপার এক্সপ্রেস — ই-পাসপোর্টের সব ফির তালিকা, অনলাইনে ও ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার নিয়ম এক লেখায়।