পাসপোর্ট সংশোধনের নিয়ম — নাম, জন্মতারিখ বা তথ্য ভুল হলে যা করবেন
পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা অন্য তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের ধাপ — আগে এনআইডি ঠিক করা কেন জরুরি, কী কাগজ লাগে ও কোথায় আবেদন করবেন।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: পাসপোর্টের ভুল সংশোধনের একটাই পথ — সঠিক তথ্য দিয়ে রি-ইস্যুর আবেদন। আর নিয়মের মূল কথা: আগে এনআইডি, পরে পাসপোর্ট। প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট এনআইডির তথ্যেই হয়, তাই ভুলটা এনআইডিতেও থাকলে আগে services.nidw.gov.bd-তে এনআইডি সংশোধন করুন, তারপর সংশোধিত এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করুন।
প্রথমে বুঝুন: ভুলটা কোথায়?
সংশোধনের রাস্তা নির্ভর করে ভুলের অবস্থানের ওপর —
| পরিস্থিতি | করণীয় |
|---|---|
| এনআইডি সঠিক, পাসপোর্টে ভুল | সরাসরি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন — এনআইডি-ই প্রমাণ |
| এনআইডি ও পাসপোর্ট দুটোতেই ভুল | আগে এনআইডি সংশোধন, তারপর পাসপোর্ট রি-ইস্যু |
| ১৮-র কম বয়সী (এনআইডি নেই) | আগে জন্ম নিবন্ধন (BRC) সংশোধন, তারপর পাসপোর্ট |
কী কী কাগজপত্র লাগবে?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র (মূল + কপি)
- বর্তমান পাসপোর্ট (মূল কপি)
- রি-ইস্যু আবেদনের প্রিন্ট ও ফি জমার প্রমাণ
- পরিবর্তনের সমর্থনকারী কাগজ: শিক্ষাসনদ (নাম/জন্মতারিখের ক্ষেত্রে), কাবিননামা (বৈবাহিক তথ্য), আদালতের হলফনামা (বড় পরিবর্তনে চাওয়া হলে)
- সরকারি চাকরিজীবীদের NOC/GO (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
সংশোধনের ধাপগুলো
এনআইডি সংশোধন করুন (ভুল সেখানেও থাকলে)
services.nidw.gov.bd-তে অনলাইন আবেদন করুন — প্রমাণ হিসেবে শিক্ষাসনদ, জন্মসনদ ইত্যাদি লাগবে এবং ধরনভেদে নির্ধারিত ফি আছে। সংশোধিত এনআইডি হাতে পাওয়ার পর তবেই পরের ধাপে যান।
ই-পাসপোর্ট পোর্টালে রি-ইস্যুর আবেদন করুন
epassport.gov.bd-তে আবেদন করুন — ফরমে দেবেন সংশোধিত (সঠিক) তথ্য, আর "Previous Passport" অংশে পুরনো পাসপোর্টের নম্বর। ID Documents অংশে সংশোধিত এনআইডি-ই ভিত্তি।
ফি দিন ও বায়োমেট্রিকের দিন সব মূল কাগজ নিন
ফি রি-ইস্যুর সমান — হার দেখুন ফির তালিকায়। বায়োমেট্রিকের দিন পুরনো পাসপোর্ট, সংশোধিত এনআইডি ও সমর্থনকারী মূল কাগজগুলো সঙ্গে নিন; কর্মকর্তা মিলিয়ে দেখে আবেদন গ্রহণ করবেন।
অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন
তথ্য পরিবর্তনের আবেদনে অনেক সময় বাড়তি যাচাই বা কাগজ চাওয়া হয় — চাওয়ামাত্র দিলে প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয়। অগ্রগতি দেখুন স্ট্যাটাস চেক পাতার নিয়মে।
বাস্তব পরামর্শ
- সব নথি এক বানানে আনুন — এনআইডি, জন্মসনদ, শিক্ষাসনদ, পাসপোর্ট: চারটি জায়গায় নামের বানান এক না হওয়া পর্যন্ত ভোগান্তি পিছু ছাড়ে না।
- সন্তানের পাসপোর্ট করার আগে জন্মসনদ ও বাবা-মায়ের এনআইডির বানান মিলিয়ে নিন — ভবিষ্যতের সংশোধন-যন্ত্রণা এখানেই থামে।
- বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একই রি-ইস্যু প্রক্রিয়া চলে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
পাসপোর্ট ঠিক রেখে শুধু ভুলটা কি সংশোধন করা যায়?
না। ই-পাসপোর্টে তথ্য বদলাতে হলে রি-ইস্যুর আবেদন করে নতুন বই নিতে হয় — পুরনো বইয়ে কলম চালানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফি-ও রি-ইস্যুর সমান।
এনআইডি আর পাসপোর্টে জন্মতারিখ আলাদা — কোনটা আগে ঠিক করব?
সবসময় আগে এনআইডি। প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট হয় এনআইডির তথ্যের ভিত্তিতে — এনআইডি না বদলে পাসপোর্ট অফিসে গেলে আবেদনই এগোবে না। এনআইডি সংশোধনের আবেদন করুন services.nidw.gov.bd-তে।
বিয়ের পর স্বামীর নাম যোগ করতে চাই — কীভাবে?
রি-ইস্যু আবেদনের সময় বৈবাহিক অবস্থা ও স্বামী/স্ত্রীর তথ্য হালনাগাদ করা যায়; প্রমাণ হিসেবে কাবিননামা/ম্যারেজ সার্টিফিকেট লাগবে। আগে এনআইডিতে তথ্যটি হালনাগাদ থাকলে প্রক্রিয়া মসৃণ হয়।
নামের বড় পরিবর্তন (সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম) কি সম্ভব?
ছোটখাটো বানান সংশোধন তুলনামূলক সহজ; সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম নেওয়া কঠিন এবং বাড়তি প্রমাণ (শিক্ষাসনদ, আদালতের হলফনামা, গেজেটে প্রকাশ ইত্যাদি) চাওয়া হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি জেনে তারপর আবেদন করুন।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
ই-পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সহজ ব্যাখ্যা।
পাসপোর্ট নবায়ন (রি-ইস্যু) করার নিয়ম — মেয়াদ শেষের আগেই যা করবেন
ই-পাসপোর্ট নবায়ন বা রি-ইস্যুর অনলাইন আবেদন, পুরনো এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে যাওয়ার নিয়ম, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কত দিন আগে আবেদন করা উচিত — পূর্ণাঙ্গ গাইড।
পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে? ই-পাসপোর্ট ফির সম্পূর্ণ তালিকা
৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ ও ১০ বছর মেয়াদ, রেগুলার-এক্সপ্রেস-সুপার এক্সপ্রেস — ই-পাসপোর্টের সব ফির তালিকা, অনলাইনে ও ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার নিয়ম এক লেখায়।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন? জিডি থেকে নতুন পাসপোর্ট পর্যন্ত
পাসপোর্ট হারালে বা চুরি হলে প্রথম কাজ থানায় জিডি — এরপর জিডির কপিসহ রি-ইস্যুর আবেদন। দেশে ও বিদেশে হারানো পাসপোর্টের পূর্ণ করণীয়, খরচ ও সতর্কতা।
পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন: কী হয়, কত দিন লাগে, টাকা লাগে কি?
পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনে কী যাচাই হয়, বাড়িতে কে আসে, কত দিন লাগে, টাকা চাইলে কী করবেন এবং ভেরিফিকেশন নেগেটিভ হলে করণীয় — সব প্রশ্নের উত্তর।
পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে? বয়স ও পেশাভেদে পূর্ণ তালিকা
প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু, সরকারি চাকরিজীবী, বিবাহিত — কার ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্টের জন্য কোন কোন কাগজ লাগে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সাধারণ ভুলগুলোর সমাধান।