সরকারি কর্মচারীর আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি: কী করা যায়, কী নিষিদ্ধ
সরকারি কর্মচারীর আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী কোন কাজগুলো নিষিদ্ধ — উপহার, ব্যবসা, রাজনীতি, সোশ্যাল মিডিয়া, সম্পত্তি বিবরণী; বিধি ভাঙলে কী শাস্তি এবং কর্মচারীর করণীয়।
সূচিপত্র দেখুন
সংক্ষিপ্ত উত্তর: সরকারি কর্মচারীর দৈনন্দিন আচরণ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত — কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা, রাজনীতি, নির্ধারিত সীমার বেশি উপহার গ্রহণ, গোপন তথ্য ফাঁস ও শৃঙ্খলা-পরিপন্থী কাজ নিষিদ্ধ; নিয়মিত সম্পত্তি বিবরণী দিতে হয়। এসব লঙ্ঘন অসদাচরণ হিসেবে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তির কারণ হতে পারে। বিধি জানা থাকলেই বেশিরভাগ বিপদ এড়ানো যায়।
কী কী সাধারণত নিষিদ্ধ?
আচরণ বিধিতে বিধিনিষেধ
- অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা লাভজনক পেশা
- রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ বা দলীয় কর্মকাণ্ড
- নির্ধারিত সীমার বেশি মূল্যের উপহার বা কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ
- সরকারি গোপন তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ
- সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরূপ প্রচার / শৃঙ্খলা-পরিপন্থী মন্তব্য
- অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)
- সম্পত্তি বিবরণী গোপন বা মিথ্যা তথ্য
- স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত বা ক্ষমতার অপব্যবহার
বিধি ভাঙলে কী হয়?
আচরণ বিধি লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলা চলে এবং অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী লঘু বা গুরুদণ্ড আসে — তিরস্কার থেকে বরখাস্ত পর্যন্ত। তবে শাস্তির আগে অভিযোগ গঠন, জবাব, তদন্ত ও শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক; এই প্রক্রিয়া না মানলে আদেশ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে বাতিলযোগ্য।
নিরাপদ থাকার সহজ নিয়ম
- সন্দেহ হলে অনুমতি নিন — ব্যবসা, বাড়তি আয়, বিদেশ ভ্রমণ, বড় সম্পত্তি অর্জনে
- সময়মতো সম্পত্তি বিবরণী দিন — নির্ভুলভাবে
- সোশ্যাল মিডিয়ায় সংযত থাকুন — নীতিগত/দলীয় বিতর্ক এড়িয়ে
- উপহার-আপ্যায়নে সীমা মানুন এবং প্রয়োজনে জানান
- লিখিত রেকর্ড রাখুন — অনুমতি, চিঠি, নির্দেশনা
সম্পর্কিত গাইড
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
সরকারি চাকরিতে ব্যবসা করা যায়?
সাধারণভাবে না — আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা লাভজনক পেশায় জড়াতে পারেন না। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে (যেমন সীমিত কৃষি/সঞ্চয়) ব্যতিক্রম থাকতে পারে; সন্দেহ হলে অনুমতি নিন।
সরকারি কর্মচারী কি রাজনীতি করতে পারেন?
না — কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া, দলীয় কর্মকাণ্ড বা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া আচরণ বিধিতে নিষিদ্ধ। এটি চাকরির নিরপেক্ষতা রক্ষার শর্ত; লঙ্ঘনে বিভাগীয় শাস্তি হতে পারে।
উপহার নেওয়া যায় কি?
নির্ধারিত সীমার বেশি মূল্যের উপহার বা যেকোনো ঘুষ-প্রকৃতির সুবিধা নেওয়া নিষিদ্ধ। সামাজিক প্রথা অনুযায়ী নামমাত্র উপহারের ক্ষেত্রে বিধিতে শর্ত ও সীমা নির্ধারিত থাকে — সীমা ছাড়ালে জানাতে/অনুমতি নিতে হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করা যায়?
সরকারি নীতি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য, গোপন তথ্য ফাঁস বা শৃঙ্খলা-পরিপন্থী পোস্ট আচরণ বিধি ও ডিজিটাল-সংক্রান্ত নির্দেশনার লঙ্ঘন হতে পারে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও সংযত থাকা নিরাপদ।
সম্পত্তির হিসাব দিতে হয় কি?
হ্যাঁ — নির্ধারিত সময় অন্তর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল করা এবং বড় লেনদেন/সম্পত্তি অর্জনে জানানো আচরণ বিধির অংশ। তথ্য গোপন বা মিথ্যা বিবরণী অসদাচরণ।
তথ্যসূত্র ও আইনি রেফারেন্স
- সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯
- সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮
আরও পড়ুন
লেখাটি শেয়ার করুন, লেখকের পরিচয় দেখুন এবং একই বিষয়ের আরও গাইড পড়ুন।
লেখকের পরিচিতি

লেখক
শান্ত ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক · এলএল.বি — BAUET · এলএল.এম — BUP
শান্ত ইসলাম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUET) থেকে এলএল.বি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে এলএল.এম সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের আইন, সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখালেখি করেন — লক্ষ্য একটাই, জটিল আইনি বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলা।
সম্পর্কিত
সম্পর্কিত লেখা
একই বিষয়ের দরকারি গাইড
বিভাগীয় মামলা: অভিযোগ, তদন্ত ও শাস্তির নিয়ম সরকারি চাকরিতে
সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা কীভাবে চলে — অভিযোগনামা, জবাব, তদন্ত, শুনানি ও শাস্তির ধাপ, কর্মচারীর অধিকার এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রতিকার।
সরকারি চাকরির আইন: কর্মচারীর অধিকার, শৃঙ্খলা ও প্রতিকার — সম্পূর্ণ গাইড
সরকারি চাকরিজীবীর অধিকার, শৃঙ্খলা ও শাস্তির নিয়ম, চাকরিচ্যুতি হলে কোন আদালতে যেতে হয় এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে প্রতিকারের পথ — সরকারি চাকরি আইনের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি।
সরকারি চাকরি চলে গেলে করণীয়: বরখাস্ত হলে প্রতিকার ও কোন আদালতে যাবেন
সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ পেলে কী করবেন — বিভাগীয় আপিল থেকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রতিকারের পথ ও সময়সীমা।
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করার নিয়ম: সরকারি চাকরির বিরোধের প্রতিকার
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল কী, কারা মামলা করতে পারেন, সময়সীমা ৬ মাস, মামলার ধাপ, কী কী কাগজ লাগে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পথ — পূর্ণাঙ্গ গাইড।
সরকারি চাকরির পেনশন ও অবসর সুবিধা: অধিকার, বিরোধ ও প্রতিকার
সরকারি চাকরির পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অবসরকালীন সুবিধা কীভাবে পাবেন, পেনশন আটকে গেলে বা কম দিলে করণীয় এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে প্রতিকারের পথ — সহজ বাংলায়।
সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেনশন): সরকারি চাকরিতে নিয়ম, খোরপোষ ভাতা ও করণীয়
সরকারি কর্মচারীকে কখন সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা যায়, খোরপোষ ভাতা কত, কতদিন সাসপেনশন থাকতে পারে, গ্রেপ্তার হলে কী হয় এবং প্রত্যাহারের নিয়ম — সহজ ব্যাখ্যা।