বাংলাদেশে সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব আইন: বিস্তারিত আইনি গাইড (২০২৬)
বিবাহ বিচ্ছেদ বা পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো সন্তানের হেফাজত (Custody) ও অভিভাবকত্ব (Guardianship)। অনেকেই মনে করেন সন্তানের হেফাজত সবসময় মায়ের কাছে যায় বা পিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত অভিভাবক—কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি আরও বিস্তারিত ও আইনি কাঠামোর মধ্যে নির্ধারিত হয়। এই লেখায় বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
হেফাজত বলতে বোঝায়—সন্তান কার সাথে বসবাস করবে এবং দৈনন্দিন যত্ন কে নেবে। এটি মূলত সন্তানের লালন-পালন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক বিকাশের সাথে সম্পর্কিত।
অভিভাবকত্ব হলো সন্তানের আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার। অর্থাৎ সন্তানের সম্পত্তি, শিক্ষা, পাসপোর্ট, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইত্যাদিতে কে আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে হেফাজত ও অভিভাবকত্ব একই ব্যক্তির কাছে নাও থাকতে পারে।
আদালত সন্তানের হেফাজত নির্ধারণের সময় “Best Interest of the Child” নীতি অনুসরণ করেন। অর্থাৎ সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণই প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সাধারণভাবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে (বিশেষ করে নাবালক সন্তান) মাকে হেফাজত দেওয়া হয়। কারণ শিশুর প্রাথমিক যত্ন ও মানসিক বিকাশে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় নিয়ম নয়—পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত সিদ্ধান্ত দেন।
মুসলিম আইনে পিতা সাধারণত সন্তানের প্রাকৃতিক অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হন। তবে যদি প্রমাণিত হয় যে পিতার কাছে থাকা সন্তানের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে আদালত অন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মায়ের পুনর্বিবাহ হলে কিছু ক্ষেত্রে সন্তানের হেফাজতের প্রশ্ন পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হেফাজত হারানোর কারণ নয়—আদালত সন্তানের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।
যদি সন্তান এক পক্ষের কাছে থাকে, অন্য পক্ষ সাধারণত সাক্ষাৎ করার অধিকার পান। আদালত নির্দিষ্ট সময় ও শর্ত নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
যদি সন্তান যথেষ্ট বয়স ও বোধসম্পন্ন হয়, আদালত তার মতামত বিবেচনা করতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সন্তানের কল্যাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
হেফাজত সংক্রান্ত বিরোধ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই আবেগের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। সন্তানের মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব আইন সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রণীত। আদালত সবসময় শিশুর কল্যাণকে প্রাধান্য দেন। তাই যে কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে আইনগত পরামর্শ নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।